শিরোনামঃ
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের হাত ধরে উন্মোচিত আফতাবনগর-বনশ্রী ফুটওভার ব্রিজ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ: বাসাইল সেতু কাণ্ডে এলজিইডি কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা স্থানীয় সরকারের ৬৫৪৪ প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, লক্ষ্য ৩০০ মেগাওয়াট অসহায় মানুষের ভরসাস্থল গাজীপুরের ডিসি: মানবিক বাংলাদেশ গড়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে ‘জরুরি’ ধারা ব্যবহার করে ব্যাপক নিয়োগ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা আমদানি: জালিয়াতির নথি ও অদক্ষদের কাজ দেওয়ার অপচেষ্টা রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ, প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ ভূরাজনীতির পালাবদলে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরীক্ষা নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি, নিউইয়র্কে তারেক রহমান অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে বান্দরবানের ১০০ নারী

অসহায় মানুষের ভরসাস্থল গাজীপুরের ডিসি: মানবিক বাংলাদেশ গড়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

#
news image

​গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি  জন প্রশাসনের সেবা প্রক্রিয়ায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

প্রতি বুধবার তিনি আয়োজন করছেন বিশেষ গণশুনানি, যেখানে তিনি চরম ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায়, দুস্থ ও নিগৃহীত নারী-পুরুষের নানা অভাব, অভিযোগ ও দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন। শুধু শোনাই নয়, সাধ্যের মধ্যে থাকা সমস্যাগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। ফলে দুশ্চিন্তা আর হতাশা নিয়ে আসা মানুষগুলো মুখে স্বস্তির হাসি নিয়ে ঘরে ফিরছেন।
​বুধবারের এই গণশুনানিতে উঠে আসে সাধারণ মানুষের জীবনের নানা বাস্তব চিত্র।

চিকিৎসা ও অর্থ সহায়তা: পঙ্গু বাবার চিকিৎসার জন্য আসা পোশাক শ্রমিক সানিয়া আক্তারকে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সুচিকিৎসার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। একইভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত টঙ্গীর অসহায় বৃদ্ধা সামসুন্নাহারকেও তাৎক্ষণিক চিকিৎসার অর্থ সাহায্য দেওয়া হয়।

আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা: স্বামী হারিয়ে ভাসুর ও আত্মীয়দের দ্বারা গৃহহীন ও অন্যায়ের শিকার বিধবা হালিমা আক্তারের চোখের জল দেখে জেলা প্রশাসক দ্রুত সদর সার্কেলের এসিল্যান্ডকে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেন।

জনকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়ন: জমি অধিগ্রহণের বিল, মাতৃত্বকালীন ভাতা, কারখানা ও বকেয়া বেতন আদায়, সড়ক সংস্কার কিংবা ইউনিয়নে নতুন ভূমি অফিস ও হাসপাতাল স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আঞ্চলিক দাবির বিষয়েও ব্যবস্থা নিচ্ছেন তিনি। সমাজসেবা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভাগ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ত্রাণ বিভাগের মতো সরকারি খাতগুলোকে সঠিক মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

​জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার ভাষায়, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তার নিজের অধিকার বুঝে পাবে। প্রতিদিন এই মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, তাদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সহমর্মিতার সমন্বয়ে তিনি আজ সাধারণ মানুষের প্রকৃত সেবক হয়ে উঠেছেন।

অন্যান্য জেলা প্রশাসকদের জন্য বার্তা: নৈতিক দায়িত্ব ও করণীয়: ​গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ কেবল একটি জেলার প্রশাসনিক সাফল্য নয়, বরং পুরো দেশের মাঠ প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল। একজন জেলা

প্রশাসক সরকারের নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে কেবল প্রশাসনিক আদেশ জারি বা ফাইল সই করার দায়িত্ব পালন করেন না; সমাজের দুর্বল ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্বের অংশ।

জনবিচ্ছিন্নতা দূরীকরণ: গাজীপুরের মতো অন্যান্য জেলাতেও নিয়মিত ও কার্যকর গণশুনানি জোরদার করা হলে প্রশাসনের সাথে সাধারণ জনগণের দূরত্ব কমে আসবে।

সরকারি সেবার সুষম বণ্টন: সরকারি তহবিল, ভাতা ও চিকিৎসা সহায়তার সুযোগগুলো প্রকৃত দুস্থদের কাছে পৌঁছে দিতে ডিসিদের সচেষ্ট ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

​মানবিক শাসনব্যবস্থা: গাজীপুরের ডিসির এই মহতী উদ্যোগ যদি সারাদেশের জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ জেলায় বাস্তবায়ন করেন, তবে রূপায়িত হবে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার সেই কাঙ্ক্ষিত 'মানবিক বাংলাদেশ'।

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪-৯-২০২৬ দুপুর ১:৫১

news image

​গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি  জন প্রশাসনের সেবা প্রক্রিয়ায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

প্রতি বুধবার তিনি আয়োজন করছেন বিশেষ গণশুনানি, যেখানে তিনি চরম ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায়, দুস্থ ও নিগৃহীত নারী-পুরুষের নানা অভাব, অভিযোগ ও দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন। শুধু শোনাই নয়, সাধ্যের মধ্যে থাকা সমস্যাগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। ফলে দুশ্চিন্তা আর হতাশা নিয়ে আসা মানুষগুলো মুখে স্বস্তির হাসি নিয়ে ঘরে ফিরছেন।
​বুধবারের এই গণশুনানিতে উঠে আসে সাধারণ মানুষের জীবনের নানা বাস্তব চিত্র।

চিকিৎসা ও অর্থ সহায়তা: পঙ্গু বাবার চিকিৎসার জন্য আসা পোশাক শ্রমিক সানিয়া আক্তারকে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সুচিকিৎসার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। একইভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত টঙ্গীর অসহায় বৃদ্ধা সামসুন্নাহারকেও তাৎক্ষণিক চিকিৎসার অর্থ সাহায্য দেওয়া হয়।

আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা: স্বামী হারিয়ে ভাসুর ও আত্মীয়দের দ্বারা গৃহহীন ও অন্যায়ের শিকার বিধবা হালিমা আক্তারের চোখের জল দেখে জেলা প্রশাসক দ্রুত সদর সার্কেলের এসিল্যান্ডকে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেন।

জনকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়ন: জমি অধিগ্রহণের বিল, মাতৃত্বকালীন ভাতা, কারখানা ও বকেয়া বেতন আদায়, সড়ক সংস্কার কিংবা ইউনিয়নে নতুন ভূমি অফিস ও হাসপাতাল স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আঞ্চলিক দাবির বিষয়েও ব্যবস্থা নিচ্ছেন তিনি। সমাজসেবা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভাগ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ত্রাণ বিভাগের মতো সরকারি খাতগুলোকে সঠিক মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

​জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার ভাষায়, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তার নিজের অধিকার বুঝে পাবে। প্রতিদিন এই মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, তাদের জন্য কিছু করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সহমর্মিতার সমন্বয়ে তিনি আজ সাধারণ মানুষের প্রকৃত সেবক হয়ে উঠেছেন।

অন্যান্য জেলা প্রশাসকদের জন্য বার্তা: নৈতিক দায়িত্ব ও করণীয়: ​গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ কেবল একটি জেলার প্রশাসনিক সাফল্য নয়, বরং পুরো দেশের মাঠ প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল। একজন জেলা

প্রশাসক সরকারের নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে কেবল প্রশাসনিক আদেশ জারি বা ফাইল সই করার দায়িত্ব পালন করেন না; সমাজের দুর্বল ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্বের অংশ।

জনবিচ্ছিন্নতা দূরীকরণ: গাজীপুরের মতো অন্যান্য জেলাতেও নিয়মিত ও কার্যকর গণশুনানি জোরদার করা হলে প্রশাসনের সাথে সাধারণ জনগণের দূরত্ব কমে আসবে।

সরকারি সেবার সুষম বণ্টন: সরকারি তহবিল, ভাতা ও চিকিৎসা সহায়তার সুযোগগুলো প্রকৃত দুস্থদের কাছে পৌঁছে দিতে ডিসিদের সচেষ্ট ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

​মানবিক শাসনব্যবস্থা: গাজীপুরের ডিসির এই মহতী উদ্যোগ যদি সারাদেশের জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ জেলায় বাস্তবায়ন করেন, তবে রূপায়িত হবে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার সেই কাঙ্ক্ষিত 'মানবিক বাংলাদেশ'।