শিরোনামঃ
সাংবাদিকতায় স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন হাবিবুর রহমান বাবু মেটা-গুগলের ব্যবসা বাংলাদেশে, কিন্তু জবাবদিহিতা কোথায়? শিল্প খাতের উন্নয়ন ছাড়া শক্তিশালী অর্থনীতি সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী আবাসন খাতের সংকট কাটাতে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চায় রিহ্যাব বিএসটিআই-এর অভিযানে হায়ারের ২ টনের এসিতে কম কুলিং ক্ষমতার অভিযোগ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ফুটবলে রাজনীতি: বিতর্কে ঢাকা বিশ্বকাপ, প্রশ্নের মুখে ফিফা দেশ বাঁচাতে বিভক্তি নয়, প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য এইচএসসিতে অংশগ্রহণ কমে শিক্ষা খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ দগ্ধ রাকিবের চিকিৎসায় আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের সহায়তা কৃত্রিম জনমতের ফাঁদ: সাইবার জগতকে গ্রাস করছে ‘বট আর্মি’

মেটা-গুগলের ব্যবসা বাংলাদেশে, কিন্তু জবাবদিহিতা কোথায়?

#
news image

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ১০ কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ ফেসবুক এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ ইউটিউব ব্যবহার করেন বলে সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য বলছে। বিপুল এই ব্যবহারকারী থাকা সত্ত্বেও মেটা (ফেসবুক) ও গুগলের বাংলাদেশে কোনো পূর্ণাঙ্গ স্থানীয় অফিস নেই। ফলে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, অপতথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি জনমত গঠন, তথ্যপ্রবাহ এবং সামাজিক-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। তবে একই সঙ্গে অপতথ্য, গুজব, মানহানি, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস আইনসহ বিভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয় এবং প্রকাশিত সংবাদের জন্য জবাবদিহিতার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় অফিস না থাকায় ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুক পোস্টের উৎস অনেক ক্ষেত্রে শনাক্ত করা গেলেও রিলস বা বিভিন্ন ভিডিও কনটেন্টের প্রকৃত উৎস চিহ্নিত করা প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে একটি অসাধু চক্র ভুয়া তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশে ফেসবুক ও ইউটিউব লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করলেও এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি নেই। ফলে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে অনুরোধ পাঠালেও সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাদের নিজস্ব নীতিমালার ভিত্তিতে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অনেক অনুরোধই কার্যকর হয় না, আবার অনেক ক্ষেত্রে কনটেন্ট সরাতে দীর্ঘ সময় লাগে। এর মধ্যে অপতথ্য ও গুজব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে।

এ পরিস্থিতিতে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার বিধান যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ বিদেশে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ওপর জাতীয় আইন প্রয়োগ বাস্তবে জটিল। বাংলাদেশে স্থানীয় অফিস বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকলে আইন প্রয়োগ, তথ্য বিনিময় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় এনেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোতে তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে মেটা ও গুগলকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। ভারতও তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ডিজিটাল মিডিয়া নীতিমালার মাধ্যমে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় আইন মেনে চলতে বাধ্য করেছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ অনলাইন অপতথ্য ও ক্ষতিকর কনটেন্ট দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রেখেই এর অপব্যবহার রোধ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর আইন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মেটা, গুগলসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশে এসব প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় অফিস এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে উঠলে সাইবার অপরাধ, গুজব, অপতথ্য ও ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের অধিকার সুরক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

স্টাফ রিপোর্টার

১২-৭-২০২৬ দুপুর ৩:২৬

news image

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ১০ কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ ফেসবুক এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ ইউটিউব ব্যবহার করেন বলে সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য বলছে। বিপুল এই ব্যবহারকারী থাকা সত্ত্বেও মেটা (ফেসবুক) ও গুগলের বাংলাদেশে কোনো পূর্ণাঙ্গ স্থানীয় অফিস নেই। ফলে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, অপতথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি জনমত গঠন, তথ্যপ্রবাহ এবং সামাজিক-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। তবে একই সঙ্গে অপতথ্য, গুজব, মানহানি, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস আইনসহ বিভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয় এবং প্রকাশিত সংবাদের জন্য জবাবদিহিতার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় অফিস না থাকায় ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুক পোস্টের উৎস অনেক ক্ষেত্রে শনাক্ত করা গেলেও রিলস বা বিভিন্ন ভিডিও কনটেন্টের প্রকৃত উৎস চিহ্নিত করা প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে একটি অসাধু চক্র ভুয়া তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশে ফেসবুক ও ইউটিউব লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করলেও এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি নেই। ফলে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে অনুরোধ পাঠালেও সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাদের নিজস্ব নীতিমালার ভিত্তিতে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অনেক অনুরোধই কার্যকর হয় না, আবার অনেক ক্ষেত্রে কনটেন্ট সরাতে দীর্ঘ সময় লাগে। এর মধ্যে অপতথ্য ও গুজব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে।

এ পরিস্থিতিতে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার বিধান যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ বিদেশে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ওপর জাতীয় আইন প্রয়োগ বাস্তবে জটিল। বাংলাদেশে স্থানীয় অফিস বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকলে আইন প্রয়োগ, তথ্য বিনিময় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় এনেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোতে তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে মেটা ও গুগলকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। ভারতও তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ডিজিটাল মিডিয়া নীতিমালার মাধ্যমে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় আইন মেনে চলতে বাধ্য করেছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ অনলাইন অপতথ্য ও ক্ষতিকর কনটেন্ট দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রেখেই এর অপব্যবহার রোধ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর আইন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মেটা, গুগলসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশে এসব প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় অফিস এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে উঠলে সাইবার অপরাধ, গুজব, অপতথ্য ও ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের অধিকার সুরক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।