শিরোনামঃ
মোতালেব প্লাজা দখলচেষ্টার অভিযোগ গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিধ্বস্ত রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বগুড়ায় সেলাই মেশিন বিতরণ স্বেচ্ছাসেবক দলের তৃণমূলের কর্মীদের পছন্দের তালিকায় নজরুল ইসলাম এগিয়ে বিক্রি নেই, বাড়ছে ঋণের বোঝা; সংকটে আবাসন উদ্যোক্তারা বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া সেলাই মেশিনে বদলাবে নারীর ভাগ্য চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ডুবে যাওয়ার আগে কৃষকের ধান কেটে দিল বসুন্ধরা শুভসংঘ মালয়েশিয়ায় বাজার সম্প্রসারণে দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের জোরালো উদ্যোগ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ইউনূস সরকারকে দায়ী করে সিপিবির আল্টিমেটাম

মোতালেব প্লাজা দখলচেষ্টার অভিযোগ

#
news image

রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও মোবাইল ফোন বাণিজ্যকেন্দ্র মোতালেব প্লাজাকে ঘিরে আবারও দখল, অস্থিরতা ও আতঙ্কের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মোতালেব প্লাজার দোকান মালিক সমিতির অফিস জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ক্রেতাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোতালেব প্লাজা দোকান মালিক সমিতির নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। “মোতালেব প্লাজা দোকান মালিক সমিতি অফিস জবরদখল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে” শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন মোল্লাসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নেতারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মোতালেব প্লাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

কখনও ভয়ভীতি, কখনও মিথ্যা প্রচারণা, আবার কখনও ব্যবসায়ীদের বিভক্ত করার মাধ্যমে মার্কেটকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

এদিকে মোতালেব প্লাজাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান, সংবাদ সম্মেলন, অফিস দখলের অভিযোগ এবং প্রকাশ্য হুমকিতে পুরো মার্কেটজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন—

“আমরা ব্যবসা করতে চাই, সংঘাত নয়।”

বিনা নির্বাচনে এডহক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার অভিযোগ এনে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আগের কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক শাহিন মোল্লা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খোন্দকার আকতার হামিদ পবন ও শাহ আলম বেপারী, সম্প্রতি মোতালেব প্লাজার একটি নতুন এডহক কমিটি গঠন করেন, যার আইনগত ভিত্তি নেই বলে দাবি পুরাতন কমিটির নেতাদের। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর পূর্ববর্তী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে তারা আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে সরকারি নিবন্ধিত দোকান মালিক সমিতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় মাহবুবুর রহমান বাচ্চু ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, শাহিন মোল্লা সাধারণ সম্পাদক এবং শাহ আলম কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই নতুন এডহক কমিটি গঠন করে খোন্দকার আকতার হামিদ পবনকে সভাপতি এবং শাহ আলম বেপারীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়, যা সমিতির গঠনতন্ত্র ও নিয়মনীতি পরিপন্থী বলে অভিযোগ করা হয়।

নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পুরাতন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন মোল্লা এবং সাধারণ দোকান মালিকরা এর তীব্র বিরোধিতা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রতিপক্ষের খোন্দকার আকতার হামিদ পবন ও শাহ আলম বেপারীর লোকজন মার্কেটে প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক ৭টা ৫২ মিনিটে খোন্দকার আকতার হামিদ পবন, শাহ আলম বেপারী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন মোতালেব প্লাজায় এসে পুরাতন বৈধ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন মোল্লাসহ অন্যান্য নেতাদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে মানহানিকর বক্তব্য দেন এবং পেশীশক্তি প্রদর্শন করেন।

অভিযোগে মাহবুবুর রহমান বাচ্চু ও শাহিন মোল্লা বলেন,

“খোন্দকার আকতার হামিদ পবন ও শাহ আলমসহ তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তারা দ্রুত প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মাহবুবুর রহমান বাচ্চু ও শাহিন মোল্লা বলেন,

“আমরা সংঘাত নয়—সমাধান চাই।”

তারা আরও বলেন,

“বৈধভাবে নিবন্ধিত পুরাতন সমিতিকে পাশ কাটিয়ে নতুন করে এডহক কমিটি গঠন এবং সমিতির অফিস দখলের চেষ্টা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে আমরা প্রস্তুত।”

তাদের ভাষ্য,

“আমরা কোনো সংঘাত চাই না। নতুন-পুরাতন সবাইকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পূর্ণাঙ্গ এডহক কমিটি গঠন করে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি নতুন এডহক কমিটির নেতারা কথিত সংবাদ সম্মেলনের পর সমিতির অফিস কক্ষে অবস্থান নেন এবং অফিস কক্ষের সামনে নিজেদের ব্যানার টানান। পুরাতন কমিটির অভিযোগ, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও নীতিবহির্ভূত পদক্ষেপ, যা মার্কেটের স্বাভাবিক পরিবেশকে ঘোলাটে করার অপচেষ্টা।

এতে সাধারণ দোকান মালিকদের মধ্যে চরম হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মোতালেব প্লাজায় আধিপত্য বিস্তার, কমিটি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। অতীতেও একাধিকবার সংঘর্ষ, ভাঙচুর, হুমকি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ ব্যবসায়ী বলেন,

“দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ দোকান মালিকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা করতে চাই। একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন হোক—এটাই আমাদের দাবি।”

ব্যবসায়ীরা জানান, মোতালেব প্লাজা শুধু একটি মার্কেট নয়—এটি দেশের প্রযুক্তি ব্যবসার একটি বড় কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো ক্রেতা, টেকনিশিয়ান, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীর সমাগম ঘটে এখানে। মোবাইল ফোন, যন্ত্রাংশ, গ্যাজেট ও প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের জীবিকা।

তাদের আশঙ্কা, কমিটি কেন্দ্রিক এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু ব্যবসায়িক পরিবেশ নয়, রাজধানীর প্রযুক্তি খাতের সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি বড় ধরনের সংঘর্ষ বা নাশকতার ঘটনাও ঘটতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মার্কেটগুলোতে কমিটি দখল, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। তবে প্রকাশ্য প্রশাসনিক অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শাহবাগ থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সাধারণ ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ক্রেতাদের একটাই দাবি—দ্রুত সমাধান। তাদের মতে, মোতালেব প্লাজার মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি মার্কেটকে সংঘাতের কেন্দ্র নয়, নিরাপদ ও স্থিতিশীল ব্যবসার পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং সকল পক্ষের অংশগ্রহণে দ্রুত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা।

কারণ, একটি কমিটির দ্বন্দ্বের আড়ালে আজ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের জীবিকা, ব্যবসা ও আস্থার জায়গা—রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মোতালেব প্লাজা।

আবুল বারাকাত

১৮-৫-২০২৬ রাত ১০:৩৫

news image

রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও মোবাইল ফোন বাণিজ্যকেন্দ্র মোতালেব প্লাজাকে ঘিরে আবারও দখল, অস্থিরতা ও আতঙ্কের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মোতালেব প্লাজার দোকান মালিক সমিতির অফিস জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ক্রেতাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোতালেব প্লাজা দোকান মালিক সমিতির নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। “মোতালেব প্লাজা দোকান মালিক সমিতি অফিস জবরদখল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে” শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন মোল্লাসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নেতারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মোতালেব প্লাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

কখনও ভয়ভীতি, কখনও মিথ্যা প্রচারণা, আবার কখনও ব্যবসায়ীদের বিভক্ত করার মাধ্যমে মার্কেটকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

এদিকে মোতালেব প্লাজাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান, সংবাদ সম্মেলন, অফিস দখলের অভিযোগ এবং প্রকাশ্য হুমকিতে পুরো মার্কেটজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন—

“আমরা ব্যবসা করতে চাই, সংঘাত নয়।”

বিনা নির্বাচনে এডহক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার অভিযোগ এনে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আগের কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক শাহিন মোল্লা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খোন্দকার আকতার হামিদ পবন ও শাহ আলম বেপারী, সম্প্রতি মোতালেব প্লাজার একটি নতুন এডহক কমিটি গঠন করেন, যার আইনগত ভিত্তি নেই বলে দাবি পুরাতন কমিটির নেতাদের। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর পূর্ববর্তী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে তারা আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে সরকারি নিবন্ধিত দোকান মালিক সমিতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় মাহবুবুর রহমান বাচ্চু ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, শাহিন মোল্লা সাধারণ সম্পাদক এবং শাহ আলম কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই নতুন এডহক কমিটি গঠন করে খোন্দকার আকতার হামিদ পবনকে সভাপতি এবং শাহ আলম বেপারীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়, যা সমিতির গঠনতন্ত্র ও নিয়মনীতি পরিপন্থী বলে অভিযোগ করা হয়।

নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পুরাতন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন মোল্লা এবং সাধারণ দোকান মালিকরা এর তীব্র বিরোধিতা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রতিপক্ষের খোন্দকার আকতার হামিদ পবন ও শাহ আলম বেপারীর লোকজন মার্কেটে প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক ৭টা ৫২ মিনিটে খোন্দকার আকতার হামিদ পবন, শাহ আলম বেপারী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন মোতালেব প্লাজায় এসে পুরাতন বৈধ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন মোল্লাসহ অন্যান্য নেতাদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে মানহানিকর বক্তব্য দেন এবং পেশীশক্তি প্রদর্শন করেন।

অভিযোগে মাহবুবুর রহমান বাচ্চু ও শাহিন মোল্লা বলেন,

“খোন্দকার আকতার হামিদ পবন ও শাহ আলমসহ তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তারা দ্রুত প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মাহবুবুর রহমান বাচ্চু ও শাহিন মোল্লা বলেন,

“আমরা সংঘাত নয়—সমাধান চাই।”

তারা আরও বলেন,

“বৈধভাবে নিবন্ধিত পুরাতন সমিতিকে পাশ কাটিয়ে নতুন করে এডহক কমিটি গঠন এবং সমিতির অফিস দখলের চেষ্টা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে আমরা প্রস্তুত।”

তাদের ভাষ্য,

“আমরা কোনো সংঘাত চাই না। নতুন-পুরাতন সবাইকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পূর্ণাঙ্গ এডহক কমিটি গঠন করে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি নতুন এডহক কমিটির নেতারা কথিত সংবাদ সম্মেলনের পর সমিতির অফিস কক্ষে অবস্থান নেন এবং অফিস কক্ষের সামনে নিজেদের ব্যানার টানান। পুরাতন কমিটির অভিযোগ, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও নীতিবহির্ভূত পদক্ষেপ, যা মার্কেটের স্বাভাবিক পরিবেশকে ঘোলাটে করার অপচেষ্টা।

এতে সাধারণ দোকান মালিকদের মধ্যে চরম হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মোতালেব প্লাজায় আধিপত্য বিস্তার, কমিটি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। অতীতেও একাধিকবার সংঘর্ষ, ভাঙচুর, হুমকি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ ব্যবসায়ী বলেন,

“দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ দোকান মালিকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা করতে চাই। একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন হোক—এটাই আমাদের দাবি।”

ব্যবসায়ীরা জানান, মোতালেব প্লাজা শুধু একটি মার্কেট নয়—এটি দেশের প্রযুক্তি ব্যবসার একটি বড় কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো ক্রেতা, টেকনিশিয়ান, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীর সমাগম ঘটে এখানে। মোবাইল ফোন, যন্ত্রাংশ, গ্যাজেট ও প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের জীবিকা।

তাদের আশঙ্কা, কমিটি কেন্দ্রিক এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু ব্যবসায়িক পরিবেশ নয়, রাজধানীর প্রযুক্তি খাতের সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি বড় ধরনের সংঘর্ষ বা নাশকতার ঘটনাও ঘটতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মার্কেটগুলোতে কমিটি দখল, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। তবে প্রকাশ্য প্রশাসনিক অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শাহবাগ থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সাধারণ ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ক্রেতাদের একটাই দাবি—দ্রুত সমাধান। তাদের মতে, মোতালেব প্লাজার মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি মার্কেটকে সংঘাতের কেন্দ্র নয়, নিরাপদ ও স্থিতিশীল ব্যবসার পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং সকল পক্ষের অংশগ্রহণে দ্রুত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা।

কারণ, একটি কমিটির দ্বন্দ্বের আড়ালে আজ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের জীবিকা, ব্যবসা ও আস্থার জায়গা—রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মোতালেব প্লাজা।