রেলওয়ের লাগেজ ভ্যান প্রকল্পে ‘ফাঁক-ফোকর’—কোথায় ব্যর্থতা, কোথায় দুর্নীতির ছাপ?
তানভীর সানি
১৬-১১-২০২৫ রাত ১১:১৬
রেলওয়ের লাগেজ ভ্যান প্রকল্পে ‘ফাঁক-ফোকর’—কোথায় ব্যর্থতা, কোথায় দুর্নীতির ছাপ?
বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘রোলিং স্টক অপারেশনস ইমপ্রোভমেন্ট প্রজেক্ট’ দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে ছিল। অবশেষে সেই প্রকল্পে ৩৫৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ডিজি শামসুজ্জামানসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রমাণ করছে—এই প্রকল্পটি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়, এক বৃহৎ দুর্নীতির জালও বটে।
মামলার এজাহারে দেখা যায়, ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যথাযথ ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়াই। রেলের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে ভ্যান কেনার যৌক্তিকতা মিলছিল না। বাজার বিশ্লেষণ, লজিস্টিকস সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ কাঠামো—কোনোটিরই সঠিক যাচাই হয়নি। অথচ প্রকল্পটি লাভজনক ও কার্যকর বলে ডিপিপি উপস্থাপন করে অনুমোদন নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলওয়েতে এমন প্রকল্পভিত্তিক দুর্নীতি নতুন নয়। বড় অঙ্কের কেনাকাটা, বিদেশি সরঞ্জাম আমদানি, প্রকল্প ডিপিপি—এসব জায়গাই দুর্নীতির জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই মামলায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম আসা প্রমাণ করে যে রেলওয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে সুসংগঠিত দুর্নীতির চক্রের কবলে ছিল।
দুদকের মামলার ফলাফল কী হবে—তা সময়ই বলবে। তবে রেলওয়ের ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা না গেলে আরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থেকেই যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তানভীর সানি
১৬-১১-২০২৫ রাত ১১:১৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘রোলিং স্টক অপারেশনস ইমপ্রোভমেন্ট প্রজেক্ট’ দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে ছিল। অবশেষে সেই প্রকল্পে ৩৫৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ডিজি শামসুজ্জামানসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রমাণ করছে—এই প্রকল্পটি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়, এক বৃহৎ দুর্নীতির জালও বটে।
মামলার এজাহারে দেখা যায়, ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যথাযথ ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়াই। রেলের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে ভ্যান কেনার যৌক্তিকতা মিলছিল না। বাজার বিশ্লেষণ, লজিস্টিকস সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ কাঠামো—কোনোটিরই সঠিক যাচাই হয়নি। অথচ প্রকল্পটি লাভজনক ও কার্যকর বলে ডিপিপি উপস্থাপন করে অনুমোদন নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলওয়েতে এমন প্রকল্পভিত্তিক দুর্নীতি নতুন নয়। বড় অঙ্কের কেনাকাটা, বিদেশি সরঞ্জাম আমদানি, প্রকল্প ডিপিপি—এসব জায়গাই দুর্নীতির জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই মামলায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম আসা প্রমাণ করে যে রেলওয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে সুসংগঠিত দুর্নীতির চক্রের কবলে ছিল।
দুদকের মামলার ফলাফল কী হবে—তা সময়ই বলবে। তবে রেলওয়ের ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা না গেলে আরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থেকেই যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।