ক্যাসিয়ার সাজ্জাদ দিন দিন বেপরোয়া মাসোহারার টাকায় বিলাসী জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬-৬-২০২৬ রাত ১১:২০
ক্যাসিয়ার সাজ্জাদ দিন দিন বেপরোয়া মাসোহারার টাকায় বিলাসী জীবন
যাত্রাবাড়ীর আবাসিক হোটেল পপুলারের যৌন ব্যবসা, মোটা অংকের টাকা দিয়ে শোরুম উদ্বোধন, এছাড়াও সাজ্জাদের সম্পদের উৎস নিয়ে এলাকাবাসী ও জাতির প্রশ্ন ?
রাতের ঢাকা যখন ধীরে ধীরে নীরব হয়ে আসে, তখনও থেমে থাকে না অর্থ আর প্রভাবের অদৃশ্য খেলা। এক শ্রেণীর লোক ডিবির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে। এরই ধারাবাহিকতার অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সাজ্জাদ এর —বিতর্কিত সম্পদ, নতুন ব্যবসা এবং বিলাসী জীবনযাপনের প্রশ্ন।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, “ডিবির ক্যাশিয়ার” হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অর্থের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।কারণ তাকে একাধিকবার কল করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, যাত্রাবাড়ী মোড় এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল পপুলার কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যুবলীগ নেতা পাপনের মালিকাধীন আবাসিক হোটেল পপুলার এর আড়ালে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গত কয়েক বছরে সাজ্জাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে আলোচিত একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক হোটেলে অবৈধ যৌন ব্যবসা পরিচালনা করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা এবং বাণিজ্যিক বিনিয়োগে সাধারণের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী মোড় এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও গুঞ্জন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মহলে আলোচিত হচ্ছে। আওয়ামী নেতা পাপনের মালিকাধীন আবাসিক হোটেল পপুলার আর এই হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন একটাই বর্তমান সময়েও এতো ক্ষমতা কোথা থেকে আসে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সাজ্জাদের নতুন আবাসিক হোটেল এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম রোড এলাকায় ব্যবসা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—অল্প সময়ের ব্যবধানে এত ব্যবসা ও সম্পদের পেছনে অর্থের উৎস কী?
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“কয়েক বছর আগেও যাকে সাধারণভাবে চলাফেরা করতে দেখা যেত, এখন তাকে ঘিরে বড় ব্যবসা, দামি মোটরসাইকেল এবং প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের কথা শোনা যায়। বিষয়গুলো তদন্ত হওয়া দরকার।”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যখন সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আয়কর নথি, ব্যবসায়িক লাইসেন্স, ব্যাংক লেনদেন এবং সম্পদের উৎস যাচাই করা। এতে যেমন নির্দোষ ব্যক্তি অভিযোগমুক্ত হওয়ার সুযোগ পান, তেমনি অভিযোগ সত্য হলে তাকে আইনের আওতায় আনা সহজ হয়।
সাধারণ জীবন থেকে ‘ক্যাসিয়ার সাম্রাজ্য’
এক সময় সাধারণ জীবনযাপন করা সাজ্জাদের উত্থান এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার বিষয়।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছরের ব্যবধানে বদলে যায় তার জীবনধারা। একাধিক দামি মোটরসাইকেল, বিলাসবহুল চলাফেরা, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি—সব মিলিয়ে তিনি নিজেকে অধিক ক্ষমতাধারী হিসেবেই উপস্থাপন করতেন।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যমতে, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেল। রাতের বেলায় সেই বাইক বহর নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। আর এসকল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ডিবি পুলিশের নামে চাঁদাবাজি করেই।
সাংবাদিক পরিচয়পত্রের আড়ালে কি ?
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগগুলোর একটি হলো— এই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনায় ব্যবহার করা হতো সাংবাদিক পরিচয়পত্র।
সূত্রের দাবি, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের আইডি কার্ড ব্যবহার করে প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রভাব তৈরি করা হতো। নিয়মিত নিজের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিক পরিচয়ে অংশগ্রহণ—সবকিছুই ছিল একটি “ইমেজ তৈরির কৌশল”।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্র এই প্রতিবেদককে বলেন গণঅভ্যুত্থানের আগে কী হয়েছে সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে বর্তমান সময়ে যদি কেউ পুলিশের নাম ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে।”
অভিযোগ, গুঞ্জন আর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে এখন একটাই প্রশ্ন—সাজ্জাদের সম্পদের প্রকৃত উৎস কী, আর কারা রয়েছে এই প্রভাব বিস্তার বলয়ের পেছনে?
সাজ্জাদের এ সকল অবৈধ সম্পদের উৎস ও ক্ষমতার বিস্তার কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে আরো একাধিক পর্ব তৈরি হয়েছে যা আগামীতে প্রকাশ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬-৬-২০২৬ রাত ১১:২০
যাত্রাবাড়ীর আবাসিক হোটেল পপুলারের যৌন ব্যবসা, মোটা অংকের টাকা দিয়ে শোরুম উদ্বোধন, এছাড়াও সাজ্জাদের সম্পদের উৎস নিয়ে এলাকাবাসী ও জাতির প্রশ্ন ?
রাতের ঢাকা যখন ধীরে ধীরে নীরব হয়ে আসে, তখনও থেমে থাকে না অর্থ আর প্রভাবের অদৃশ্য খেলা। এক শ্রেণীর লোক ডিবির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে। এরই ধারাবাহিকতার অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সাজ্জাদ এর —বিতর্কিত সম্পদ, নতুন ব্যবসা এবং বিলাসী জীবনযাপনের প্রশ্ন।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, “ডিবির ক্যাশিয়ার” হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অর্থের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।কারণ তাকে একাধিকবার কল করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, যাত্রাবাড়ী মোড় এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল পপুলার কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যুবলীগ নেতা পাপনের মালিকাধীন আবাসিক হোটেল পপুলার এর আড়ালে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গত কয়েক বছরে সাজ্জাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে আলোচিত একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক হোটেলে অবৈধ যৌন ব্যবসা পরিচালনা করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা এবং বাণিজ্যিক বিনিয়োগে সাধারণের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী মোড় এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও গুঞ্জন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মহলে আলোচিত হচ্ছে। আওয়ামী নেতা পাপনের মালিকাধীন আবাসিক হোটেল পপুলার আর এই হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন একটাই বর্তমান সময়েও এতো ক্ষমতা কোথা থেকে আসে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সাজ্জাদের নতুন আবাসিক হোটেল এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম রোড এলাকায় ব্যবসা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—অল্প সময়ের ব্যবধানে এত ব্যবসা ও সম্পদের পেছনে অর্থের উৎস কী?
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“কয়েক বছর আগেও যাকে সাধারণভাবে চলাফেরা করতে দেখা যেত, এখন তাকে ঘিরে বড় ব্যবসা, দামি মোটরসাইকেল এবং প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের কথা শোনা যায়। বিষয়গুলো তদন্ত হওয়া দরকার।”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যখন সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আয়কর নথি, ব্যবসায়িক লাইসেন্স, ব্যাংক লেনদেন এবং সম্পদের উৎস যাচাই করা। এতে যেমন নির্দোষ ব্যক্তি অভিযোগমুক্ত হওয়ার সুযোগ পান, তেমনি অভিযোগ সত্য হলে তাকে আইনের আওতায় আনা সহজ হয়।
সাধারণ জীবন থেকে ‘ক্যাসিয়ার সাম্রাজ্য’
এক সময় সাধারণ জীবনযাপন করা সাজ্জাদের উত্থান এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার বিষয়।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছরের ব্যবধানে বদলে যায় তার জীবনধারা। একাধিক দামি মোটরসাইকেল, বিলাসবহুল চলাফেরা, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি—সব মিলিয়ে তিনি নিজেকে অধিক ক্ষমতাধারী হিসেবেই উপস্থাপন করতেন।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যমতে, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেল। রাতের বেলায় সেই বাইক বহর নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। আর এসকল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ডিবি পুলিশের নামে চাঁদাবাজি করেই।
সাংবাদিক পরিচয়পত্রের আড়ালে কি ?
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগগুলোর একটি হলো— এই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনায় ব্যবহার করা হতো সাংবাদিক পরিচয়পত্র।
সূত্রের দাবি, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের আইডি কার্ড ব্যবহার করে প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রভাব তৈরি করা হতো। নিয়মিত নিজের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিক পরিচয়ে অংশগ্রহণ—সবকিছুই ছিল একটি “ইমেজ তৈরির কৌশল”।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্র এই প্রতিবেদককে বলেন গণঅভ্যুত্থানের আগে কী হয়েছে সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে বর্তমান সময়ে যদি কেউ পুলিশের নাম ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে।”
অভিযোগ, গুঞ্জন আর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে এখন একটাই প্রশ্ন—সাজ্জাদের সম্পদের প্রকৃত উৎস কী, আর কারা রয়েছে এই প্রভাব বিস্তার বলয়ের পেছনে?
সাজ্জাদের এ সকল অবৈধ সম্পদের উৎস ও ক্ষমতার বিস্তার কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে আরো একাধিক পর্ব তৈরি হয়েছে যা আগামীতে প্রকাশ করা হবে।