অভিযোগ ও আলোচনায় উঠে এসেছে, বিভিন্ন সময়ের মতোই সাম্প্রতিক সময়েও দেশ থেকে অর্থ পাচারের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সুইস ব্যাংকে আমানত বৃদ্ধি
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।
২০২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। সেই হিসাবে এক বছরে আমানত প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালের পর এটি বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ আমানতের রেকর্ড এবং গত এক দশকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
অর্থ পাচার প্রসঙ্গে বিশ্লেষণ
আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট ও গবেষকদের মতে, সুইস ব্যাংকে জমা অর্থ বাংলাদেশের সম্ভাব্য বিদেশে থাকা সম্পদের একটি অংশমাত্র নির্দেশ করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের বড় অংশ অন্য দেশেও স্থানান্তরিত হয়, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া উল্লেখযোগ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুইস ব্যাংকে আমানত বৃদ্ধির হারকে এককভাবে অর্থ পাচারের পরিমাপক হিসেবে দেখা ঠিক নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
নীতি ও পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থ পাচার রোধ এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে অগ্রগতির দৃশ্যমানতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন মত রয়েছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
তদন্ত ও স্বচ্ছতার দাবি
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অর্থ পাচার রোধে কার্যকর ও সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান অর্থপাচারের অভিযোগগুলো রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।
তারা বলছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য শনাক্ত করা গেলে বিদেশে থাকা অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।