পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘আই’ ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।
আবদুস সাদেক দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বড় ভাই। তিনি দেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক স্যাটেলাইট টেলিভিশন টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইশতিয়াক সাদেকের পিতা। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহানও ব্রিটিশ আমলের একজন খ্যাতিমান সাঁতারু ছিলেন।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী
স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে আবদুস সাদেক ছিলেন এক অনন্য নাম। হকির পাশাপাশি ফুটবল ও ক্রিকেটেও তিনি সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের ফুটবল ও হকি—উভয় দলেরই প্রথম অধিনায়ক হওয়ার বিরল কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর।
ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন।
স্বাধীনতার আগে অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের সদস্য হিসেবে ১৯৬৯ সালে ইউরোপ সফরে অংশ নেন আবদুস সাদেক। জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নৈপুণ্য প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেন তিনি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়কত্ব করেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। এছাড়া ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশ নিলে হকি দলের অধিনায়কও ছিলেন আবদুস সাদেক।
সফল কোচ ও দূরদর্শী সংগঠক
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে আবাহনী ফুটবল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন আবদুস সাদেক। তাঁর অধীনেই ১৯৭৭ সালে আবাহনী ঘরোয়া ফুটবল লিগে কোনো ম্যাচ না হেরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস গড়ে।
পরে তিনি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রচেষ্টা ও কূটনৈতিক দক্ষতার ফলেই ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় এশিয়া কাপ হকির আসর জাপানের পরিবর্তে ঢাকায় আয়োজনের সুযোগ পায় বাংলাদেশ।
ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া
আবদুস সাদেকের মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। তাঁর প্রয়াণে বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, ক্লাব, সাবেক ও বর্তমান ক্রীড়াবিদসহ ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।