শিরোনামঃ
ডিজিটাল নেশার ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুর মনোযোগ ও সৃজনশীলতা পথহারা কূটনীতি, ফেরাতে হবে সঠিক পথে ছয় শিশুর মৃত্যুর বিচার হয়, ছয়শ শিশুর ঘাতকরা শাস্তি পায় না! আবাসন খাত করমুক্ত হলে ৩৬০০ শিল্প চাঙ্গা হবে, বাড়বে রাজস্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আবাসন খাত পুনরুজ্জীবন এখন সময়ের দাবি পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ: গ্রামীণ বাংলাদেশের ভাগ্যবদল করছেন তারেক রহমান জনবান্ধব বাজেট ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ: যেখানে সরকারকে নজর দিতে হবে প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে টেন্ডার বাণিজ্য- রূপনগরে দুই প্রতারক আটক আইনের হাতে সোপর্দ জুলকান ইনডোর অ্যারেনা'য় সম্পন্ন হলো জুলকান বিটডাউন ব্যবসায়ীদের বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে থমকে যাবে নতুন বিনিয়োগ

ডিজিটাল নেশার ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুর মনোযোগ ও সৃজনশীলতা

#
news image

বাংলাদেশের কোমলমতি শিশু-কিশোররা আজ এক নীরব কিন্তু গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঘিরে অভিভাবকদের যে রঙিন স্বপ্ন, তার ওপর ধীরে ধীরে জমছে উদ্বেগের ঘন ছায়া। রাত জেগে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করা এখন অনেক কিশোর-কিশোরীর দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই অতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা তাদের ঘুম, পড়াশোনার মনোযোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, বাড়াচ্ছে উদ্বেগ ও চাপ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, স্পেন ও নরওয়ের মতো দেশগুলো শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষায় আইনগত কাঠামো শক্ত করছে। অথচ বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়ে কার্যকর কোনো বয়সভিত্তিক নীতিমালা নেই। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৬ কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে, যার বড় অংশই কিশোর ও তরুণ।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়িয়ে আসক্তি তৈরি করে, যা স্বাভাবিক মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে। তাঁর মতে, এ কারণে শিশুদের সৃজনশীলতা কমে যাচ্ছে এবং তারা ধীরে ধীরে বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অনুরূপ উদ্বেগ প্রকাশ করে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন এমন এক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর মতে, শিশুদের ডিজিটাল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ এখন সময়ের দাবি।

‘নেচার অ্যান্ড সায়েন্স অব স্লিপ’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো শিক্ষার্থীদের ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা গেছে। দিনে ৪-৫ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহারে ঘুম ভাঙা, মনোযোগের অভাব এবং ক্লাসে অনাগ্রহ বাড়ছে।

অন্যদিকে, আইসিডিডিআরবি’র গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার শিশুরা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে ব্যয় করছে, যার ফলে চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা, স্থূলতা ও মানসিক জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করছে, তখন বাংলাদেশ এখনো এ বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে বয়সভিত্তিক সীমা, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ এবং গেমিং নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা চালু করেছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। বিদ্যমান আইনগুলো অনলাইন অপরাধ দমনে কার্যকর হলেও শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষায় যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউনিসেফের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে এবং তারা কঠোর নীতিমালার পক্ষে মত দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নীতিগত সীমা নির্ধারণ, বয়স যাচাই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা, স্কুল পর্যায়ে ডিজিটাল সচেতনতা শিক্ষা চালু, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশেও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট

১৮-৬-২০২৬ বিকাল ৫:২০

news image

বাংলাদেশের কোমলমতি শিশু-কিশোররা আজ এক নীরব কিন্তু গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঘিরে অভিভাবকদের যে রঙিন স্বপ্ন, তার ওপর ধীরে ধীরে জমছে উদ্বেগের ঘন ছায়া। রাত জেগে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করা এখন অনেক কিশোর-কিশোরীর দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই অতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা তাদের ঘুম, পড়াশোনার মনোযোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, বাড়াচ্ছে উদ্বেগ ও চাপ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, স্পেন ও নরওয়ের মতো দেশগুলো শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষায় আইনগত কাঠামো শক্ত করছে। অথচ বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়ে কার্যকর কোনো বয়সভিত্তিক নীতিমালা নেই। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৬ কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে, যার বড় অংশই কিশোর ও তরুণ।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়িয়ে আসক্তি তৈরি করে, যা স্বাভাবিক মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে। তাঁর মতে, এ কারণে শিশুদের সৃজনশীলতা কমে যাচ্ছে এবং তারা ধীরে ধীরে বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ও পারিবারিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অনুরূপ উদ্বেগ প্রকাশ করে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন এমন এক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর মতে, শিশুদের ডিজিটাল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ এখন সময়ের দাবি।

‘নেচার অ্যান্ড সায়েন্স অব স্লিপ’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো শিক্ষার্থীদের ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা গেছে। দিনে ৪-৫ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহারে ঘুম ভাঙা, মনোযোগের অভাব এবং ক্লাসে অনাগ্রহ বাড়ছে।

অন্যদিকে, আইসিডিডিআরবি’র গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার শিশুরা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে ব্যয় করছে, যার ফলে চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা, স্থূলতা ও মানসিক জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করছে, তখন বাংলাদেশ এখনো এ বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে বয়সভিত্তিক সীমা, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ এবং গেমিং নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা চালু করেছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। বিদ্যমান আইনগুলো অনলাইন অপরাধ দমনে কার্যকর হলেও শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষায় যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউনিসেফের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে এবং তারা কঠোর নীতিমালার পক্ষে মত দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নীতিগত সীমা নির্ধারণ, বয়স যাচাই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা, স্কুল পর্যায়ে ডিজিটাল সচেতনতা শিক্ষা চালু, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশেও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।